Ticker

6/recent/ticker-posts

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন ও নিয়ত

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন ও নিয়ত
তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন ও নিয়ত

পবিত্র রমজান মাস মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলত পূর্ণ মাস। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করার জন্য এই মাস। ধর্ম প্রাণ মুসলিমরা এই মাসকে ইবাদতের জন্য অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকেন, দিনের বেলা রোজা এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করেন। রমজান মাসে রাতের বেলা তারাবির নামাজ আদায় করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। হাদিস শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবির নামাজ আদায় করবে তার অতীতের গুনাহ সমূহ মাফ করে দেয়া হবে।  .

তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম কানুন জানার আগে আমাদের জানতে হবে তারাবি অর্থ কি। তারাবি শব্দটি মূলত একটি আরবি শব্দ। আর তারাবি শব্দটিকে আরবিতে তারাবিহ বলা হয়ে থাকে। এর মূল ধাতু হচ্ছে রাহাতুন। রাহাতুন শব্দের অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। পবিত্র রমজানে এশার নামাজের চার রাকাত ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নতের পর, বিতর নামাজের আগে  দুই রাকাত করে ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা হয়, একে ‘তারাবি’ নামাজ বলা হয়। 

এক নজরে :

১. এশার চার রাকাত সুন্নত 

২. এশার চার রাকাত ফরজ

৩. এশার দুই রাকাত সুন্নত

৪. দুই রাকাত দুই রাকাত করে তারাবির সালাত

৫. এশার তিন রাকাত বেতের 

তারাবি নামাজের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে বুখারি ও মুসলিম শরীফে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে পূণ্য লাভের আশায় রমজানের রাতে তারাবি নামাজ আদায় করেন, তাঁর অতীতকৃত পাপগুলো ক্ষমা করা হয়।

তারাবির নামাজের নিয়ত ঃ 

তারাবির নামাজ পড়ার পূর্বে যদি আপনি যদি নিয়ত করতে চান, তাহলে সে ক্ষেত্রে নিম্ন বর্ণিত তারাবির নামাজের নিয়ম পাঠ করতে পারেন। 

আরবি ঃ  نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

বাংলা ঃ  নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবর।

অর্থঃ  আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবর। 

তারাবি নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতে ও এভাবে নিয়ত করা যাবে, যে ‘আল্লাহুর সন্তষ্টির জন্য তারাবি- এর দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- ইমামের পেছনে) পড়ছি - আল্লাহু আকবার’। 


তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের
তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন মহিলাদের ঃ 

আমাদের দেশে দুই ধরনের তারাবি প্রচলিত আছে, একটি হলো সূরা তারাবি এবং অন্যটি হলো খতম তারাবি। ‘সূরা তারাবি হলো পবিত্র কোরআনের যেকোনো সূরা দিয়ে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা। ’
খতম তারাবি হলো রমজান মাসে সম্পূর্ণ কোরআন সহকারে তারাবির নামাজ আদায় করা। উভয় পদ্ধতি ইসলামে অনুমোদন করে। তবে খতম তারাবিতে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। সূরা তারাবির মাধ্যমে নামাজ আদায় করলে ও নামাজ আদায় হবে।

তারাবির নামাজ নারী-পুরুষ সকলের জন্য সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। তারাবির নামাজ আদায়ে নারীদের আলাদা কোন নিয়ম নেই। পুরুষের মতই তারা মসজিদে গিয়ে কিংবা ঘরেই তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে নারীদের ঘরেই তারাবীর নামাজ আদায় করা উত্তম। নারীদের জন্য কিয়ামুল নামাজ (রাতের নামাজ) ঘরে আদায় করা উত্তম। 

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে মসজিদে যেতে বাঁধা দিও না। তবে অবশ্য তাদের নামাজ ঘরেই পড়া তাদের জন্য উত্তম। [ হাদিসটি ‘সহিহুল জামে’প্রন্থে (৭৪৫৮) সংকলিত হয়েছে। ] 

কোন নারী মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্ত রয়েছে ঃ 

১। পরিপূর্ণ হিজাব পড়ে থাকতে হবে। 
২। সুগন্ধি লাগিয়ে যাওয়া যাবে না। 
৩। স্বামীর অনুমতি নিয়ে যেতে হবে। 

অথবা বের হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য আরেকটি হারাম কাজ যেন সংঘটিত না হয়, যেমন একাকী ড্রাইভারের সাথে বের হওয়া। 

যদি কোন নারী উল্লেখিত শর্তগুলোর কোনটি ভঙ্গ করে, সেক্ষেত্রে নারীর স্বামী কিংবা অভিভাবক তাকে মসজিদে যেতে বাঁধা দিতে পারবেন। 

তারাবির নামাজের নিয়ম ঃ 

তারাবির নামাজ দুই দুই রাকাত করে পড়তে হয়। একবার সালামে দুই রাকাত, এভাবে ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নাত। 

প্রথমেই নিয়তঃ তারাবীর নামাজের নিয়ত, অন্যান্য নামাজের মতই। অন্তরে শুধু সুন্নতে মোয়াক্কাদা তারাবীর নামাজের নিয়ত করে তাকবীর বলবে। 

তাকবীরে তাহরিমা বলার পর বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রাখুন এবং এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে সানা পড়ুন।

উচ্চরণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়াবি হামদিকা ওয়া তাবারা কাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুক। (নাসায়ি, হাদিস:৮৮৯)

এরপর অনুচ্চৈঃস্বরে আউজু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম। তারপর বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম পড়ুন। (তাহাবি, ১/৩৪৭)  

এবার সূরা ফাতিহা পড়ুন। শেষ হলে অনুচ্চৈঃস্বরে আমিন পড়ুন।

আমিন বলার পর আবার বিসমিল্লাহির রাহমানির রহিম পড়ুন। সূরা ফাতিহা শেষ হলে একটি সূরা অথবা তিনটি ছোট আয়াত পড়ুন, যা কমপক্ষে লম্বা একটি আয়তের সমতুল্য হয়। (আবু দাউদ, হাদিস:৬৯৫)

তারপর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান। রুকুতে মাথা নিতম্বের বরাবর করুন। (আবু দাউদ, হাদিস:৭২৯)

রুকুতে আঙুলগুলো ছড়িয়ে দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরুন। (মুজামে সাগির ২/৪৯৭)

রুকুতে কমপক্ষে তিনবার সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস:২৪২)

এবার রুকু থেকে উঠে সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে মাথা ওঠান। আবার অনুচ্চৈঃস্বরে শুধু রাব্বানা লাকাল হামদ বলুন। 

তারপর তাকবীর তথা আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যান। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৪৭)। 

সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সুবহানা রাব্বিয়াল আলা পড়ুন। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪২)।

এরপর সিজদা থেকে ওঠার সময় সর্বপ্রথম মাথা উঠিয়ে উভয় হাতকে রানের ওপর রেখে স্থিরতার সঙ্গে বসে পড়ুন। তারপর তাকবীর বলে দ্বিতীয় সিজদা করুন। দ্বিতীয় সিজদায় ও কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়ুন। 

অতঃপর সরাসরি তাকবীর বলে দাঁড়িয়ে যান। এ পর্যন্ত প্রথম রাকাত সম্পন্ন হলো। 

এরপর দ্বিতীয় রাকাত শুরু করা হলো। এতে হাত উঠাবেন না, ছানাও পড়বেন না, আউজু বিল্লাহও পড়বেন না। তবে আগের রাকাত মতো সূরা ফাতিহা ও তার সঙ্গে অন্য একটি সূরা পড়ে রুকু- সিজদা ক্রবেন।

দ্বিতীয় সিজদা শেষ করে তাশাহুদ, দরুদ, দোয়া মাসূরা পড়বেন। তারপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ’ বলতে বলতে ডানে ও বামে সালাম ফেরাবেন।  

এই ভাবে আবারো দুই রাকাত সম্পন্ন করুন। এই ভাবে চার রাকাত সম্পন্ন করার পর, একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার নামাজ শুরু করুন।



Post a Comment

0 Comments